শ্যামনগর প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ১২ নম্বর গাবুরা ইউনিয়নে সুন্দরবনকেন্দ্রিক বনজীবীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, বনদস্যুদের সঙ্গে যোগসাজশ, জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ে সহযোগিতা এবং সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মেহেদী হাসান এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি.এম. বিল্লাল হোসেন ও ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জি.এম. ইয়াসিন আরাফাতের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গাবুরা ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সুন্দরবনে প্রবেশ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু সুন্দরবনকেন্দ্রিক বনদস্যুদের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে সাধারণ বনজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে এবং তাদের স্বাভাবিকভাবে জীবিকা নির্বাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও বনদস্যুদের সঙ্গে আঁতাত করে সুন্দরবনগামী জেলেসহ বনজীবীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ আদায় করছেন। তাদের অভিযোগ, জেলেদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করে এর একটি অংশ বনদস্যুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হচ্ছে।মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, গাবুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত জি.এম. বিল্লাল হোসেন এবং তার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা জি.এম. ইয়াসিন আরাফাত দীর্ঘদিন ধরে গণঅধিকারের নেতা পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।
রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের পরিচয় ব্যবহার করেও তারা পুনরায় এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
এছাড়া মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বক্তারা বলেন, তিনি সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে হয়রানি ও চাঁদাবাজি করছেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলায় পলাতক আসামি থাকার অভিযোগও করেন তারা। বক্তাদের দাবি, তার মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও পুলিশ সদস্যদেরও হয়রানি এবং ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে।বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ইয়াসিন আরাফাত ঢাকায় অবস্থান করেও সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন এবং তার বাবা বিল্লাল হোসেনের মাধ্যমে এলাকায় অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে মেহেদী হাসান, জি.এম. বিল্লাল হোসেন ও জি.এম. ইয়াসিন আরাফাতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে সুন্দরবননির্ভর জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।