শ্যামনগরে প্রাণিসম্পদ সুরক্ষায় বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি
গরুতে ক্ষুরা রোগ ও ছাগল-ভেড়ার পিপিআর প্রতিরোধে উদ্যোগ—সচেতন করা হলো স্থানীয় খামারি ও পশুপাখিদের। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পশ্চিম পোড়াকাটলা গ্রামে গবাদিপশুর বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ও প্রাণিসম্পদ সুরক্ষায় বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ২০২৬) স্থানীয় খামারি ও পশুপালকদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
গরুর ক্ষুরা রোগ এবং ছাগল-ভেড়ার পিপিআর রোগ প্রতিরোধে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকার পশুপালকদের বিনামূল্যে টিকা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধ, সঠিক পরিচর্যা, সময়মতো টিকা প্রদান এবং রোগাক্রান্ত পশুর বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে স্থানীয়দের সচেতন করা হয়।
Climate Action at Local Level (CALL) প্রকল্পের আওতায়, Global Alliance for Improved Nutrition (GAIN)-এর অর্থায়নে এবং Local Environment Development and Agricultural Research Society (LEDARS)-এর বাস্তবায়নে এ টিকাদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় পর্যায়ে প্রাণিসম্পদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা ঝুঁকির মধ্যে গবাদিপশু পালনকারী পরিবারগুলোর প্রাণিসম্পদকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করা। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার পশুপালকদের জন্য রোগবালাই প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদানের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
টিকাদান কর্মসূচিতে স্থানীয় খামারি ও পশুপালকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। তারা তাদের গরু, ছাগল ও ভেড়াকে নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ করেন।
টিকা প্রদানের পাশাপাশি পশুর অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত প্রাণিসম্পদ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাবু উত্তম কুমার গাইন, প্রাণিসম্পদ এআই টেকনিশিয়ান, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন এবং মোঃ আব্দুস সামাদ, ভ্যাকসিনেটর, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন।
তারা স্থানীয় পশুপালকদের গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদানের গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করেন।
এ সময় CALL প্রকল্পের শ্যামনগর শাখা অফিসের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর অনুপ কুমার মন্ডল উপস্থিত থেকে কর্মসূচির সার্বিক সহযোগিতা ও সমন্বয় করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গবাদিপশুর ক্ষুরা রোগ এবং ছাগল-ভেড়ার পিপিআর রোগ খামারিদের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এসব রোগ প্রতিরোধে সময়মতো টিকা প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত টিকাদানের মাধ্যমে পশুর মৃত্যুহার কমানোর পাশাপাশি খামারিদের আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
স্থানীয় পশুপালকরা বিনামূল্যে টিকা ও সচেতনতামূলক এ ধরনের কার্যক্রম আয়োজন করায় আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তারা বলেন, গ্রাম পর্যায়ে এ ধরনের কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজন করা হলে পশুর রোগবালাই সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়বে এবং ছোট ও প্রান্তিক খামারিরা উপকৃত হবেন।
উল্লেখ্য, উপকূলীয় শ্যামনগর অঞ্চলে অনেক পরিবার গবাদিপশু ও ছাগল-ভেড়া পালনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। ফলে প্রাণিসম্পদের রোগ প্রতিরোধ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা স্থানীয় অর্থনীতি ও পরিবারের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
এ ধরনের টিকাদান ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি প্রাণিসম্পদ রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক সংশ্লিষ্টরা ভুমিকা রাখবেন বলে কার স্বাস্থ্য করেছেন।