বিশেষ প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে কলেজ শিক্ষক মোঃ সামছুজ্জামান রানা ও তার ছেলে একাদশ শ্রেনীর ছাত্র সজীব হোসেনের উপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনোয়ারুল ইসলাম আঙ্গুরের নকিপুর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে পিতা-পুত্রের উপর বর্বর ঐ নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। এলাকায় মাদক বিক্রয়ের প্রতিবাদের জেরে আঙ্গুরের নেতৃত্বে দেহরক্ষী আব্দুল্লাহ ও আলমগীরসহ আকিমদ্দিন, আব্দুর রহমান রানা, রফিকুল, ও আরিয়ান নির্যাতন চালায় বলে দাবি ভুক্তোভোগী পরিবারের। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত পিতা-পুত্রকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
কাটুনিয়া রাজবাড়ী কলেজের প্রভাষক মোঃ সামছুজ্জামান রানার ভাষ্য প্রতিবেশী রফিকুল ইসলামের ছেলে আব্দুর রহমান রানা এলাকায় মাদকদ্রব্য বিক্রয়ের সাথে জড়িত। শুক্রবার রাত দুইটার দিকে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের ১০/১২ জন সদস্যকে নিয়ে সে এলাকায় মাদকের আসর বসিয়েছিল। সে ঘটনার প্রতিবাদ করায় শনিবার সকালে দেহরক্ষী আব্দুল্লাহ ও আলমগীরকে পাঠিয়ে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায় যুবদল নেতা আঙ্গুর। বাদানুবাদের একপর্যায়ে একে একে পুত্রসহ তার একটি গাছের সাথে বেঁেধ বেধড়ক মারপিট করা হয়। এসময় গামছা দিয়ে চোখ-মুখ বেঁধে তাদের মাথা ও মুখে পানি ঢালা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এমনকি চিৎকার করায় রশি দিয়ে সজীবের গলা আটকে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও তার দাবি।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন সামছুজ্জামানের ভাই শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আরিফুজ্জামান জানান স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যেয়ে ভাইসহ ভাইপোকে উদ্ধার করেন। সজীবের রেন্সের আঘাতে ভাইপোর মাথা ফেটে গেছে দাবি করে তিনি জানান যুবদল নেতা আঙ্গুর, দুই দেহরক্ষীসহ বর্বর হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক শাকির হোসেন জানান সজীবের মাথায় তিনটি সেলাই পড়েছে। গলায় বড় দাগ লক্ষ্য করা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য মোবাইল করা হলেও যুবদল নেতা আঙ্গুর কল রিসিভ করেনি। তবে তার দেহরক্ষী আব্দুল্লাহ জানান, লিডারের বাড়িতে বসে উচ্চবাচ্য করার কারনে সামান্য শিক্ষা দেয়া হয়েছে।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম জানান লিখিত অভিযোগ হাতে পেলেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। মাদকের পক্ষে কেউ অবস্থান নিলে দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।