
কালিগঞ্জ প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের সেতা গ্রামে একটি বসতবাড়ির গা-ঘেঁষে পোল্ট্রি মুরগির খামার নির্মাণ করায় তীব্র দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবার।কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের সেতা গ্রামের মৃত মোস্তফা মোল্লার ছেলে হুমায়ুন কবির বাবু আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একই এলাকার আব্দুল হক পাড়ের স্ত্রী মাহফুজা খাতুনের বসতবাড়ির গাঁ ঘেষে পোল্ট্রি মুরগীর খামার গড়ে তুলেছেন। এতে পোল্ট্রি মুরগীর বিষ্ঠা ও নানা প্রকার ক্ষতিকর বর্জের দূর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন মাহফুজা খাতুনের পরিবার। এছাড়া তীব্র দূর্গন্ধে তাদের পরিবারের সদস্যদেরসহ এলাকাবীর মারাত্মক স্বাস্থ্যঝূঁকি তৈরী হচ্ছে।
সরেজমিনে গেলে কাঁদতে কাঁদতে ভূক্তভূগী মাহফুজা খাতুন বলেন, আমার বসতবাড়ির গা ঘেষে পোল্ট্রি মুরগীর খামার তৈরী করেছে বাবু। এতে আমি বারান্দায় বসে একটু নামাজও পড়তে পারিনা। আমার পরিবারের সদস্যরা তিন বেলা খাবার খেতে পারিনা। খাবার খেতে বসলেই পোল্ট্রি মুরগীর বিষ্ঠা ও নানান প্রকার বর্জের গন্ধে বমি চলে আসে। এছাড়া আমার জমির পাশের গর্তে পোল্ট্রি মুরগীর বিষ্ঠা ফেলায় বাবু। সেগুলো পঁচে তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ তৈরী হয়। এতে এখানে বসবাস করা প্রায় অসম্বব হয়ে যাচ্ছে। ৩০/৩৫ বছর ধরে এখানে স্বামী সন্তান নিয়ে বসবাস করি। কোনদিন কারো সাথে ঝামেলা হয়নি। তবে এই তীব্র গন্ধ নিয়ে কিছু বলতে গেলেই বাবু তার লোকজন নিয়ে আমাদের মারতে আসে। এক দিকে পোল্ট্রির খমারের দূর্গন্ধে জীবন যায়যায় অবস্থা অপর দিকে বাবুর ভয়ে আমরা মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বাবুর খামারের দূর্গন্ধে মাহফুজা খাতুনের পরিবারসহ আশেপাশের মানুষের মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। প্রশাসন এ ব্যাপারে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা করছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির বাবু বলেন, ‘আশেপাশে অনেকেই পোল্ট্রি খামার করেছেন। এজন্য আমিও করেছি। আমারে পোল্ট্রি খামারের দূর্গন্ধ বাইরে যায়না।’
কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা শংকর কুমার দে বলেন, ‘মাহফুজা খাতুনের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে তদন্ত করেছি। এ ব্যাপারে বিস্তারিত তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করে প্রতিবেদন জমা দেবো।’
জাহিদ হোসাইন
০১৭৩৫২৮৪৯৭৪
০৮.০৭.২৬