
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
‘উপকূলীয় জনপদ, হতে হবে নিরাপদ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা অডিটোরিয়ামে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল আজম মনির। প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ড. মো. মনিরুজ্জামান।
সভায় ড. মনিরুজ্জামান অভিযোগ করেন, নির্বাচনে ধানের শীষ পরাজিত হয়নি; বরং কারচুপির মাধ্যমে পরাজিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “রাত ৮টা পর্যন্ত আমরা জানতাম যে আমরা জয়ী হয়েছি। কিন্তু পরে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ভোট কারচুপির মাধ্যমে ফল পরিবর্তন করা হয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. আব্দুর রশিদের প্রভাবেই তাঁকে পরাজিত করা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকেরা উপকূলীয় অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন, বেড়িবাঁধের স্থায়ী সংস্কার, নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিভিন্ন দাবি ও মতামত তুলে ধরেন।
জবাবে ড. মনিরুজ্জামান বলেন, আগামী পাঁচ বছর অনেক বিষয়ে পিছিয়ে থাকার আশঙ্কা থাকলেও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এলাকার উন্নয়নে কাজ করা হবে।
তিনি বলেন, খুব শিগগিরই শ্যামনগরে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে একটি পর্যটন কেন্দ্রের উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া তিনি আতরজান কলেজকে সরকারি করার উদ্যোগ নেওয়া, শ্যামনগর মহসিন ডিগ্রি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার প্রচেষ্টা চালানো এবং শ্যামনগর পৌর এলাকায় জমির ওপর আরোপিত উচ্চ কর মওকুফ বা কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির নেতা আশেক ইলাহি মুন্না, শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সোলাইমান কবীর, সহসভাপতি আবু সাঈদ, বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী বাবুসহ স্থানীয় নেতারা।