কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দুই বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মৃত ইউনুস সরদারের ছেলে ঘের ব্যবসায়ী এস এম আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) এবং কালিগঞ্জের বাসিন্দা রেবতী সরকার।
স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোমরের ব্যথার চিকিৎসার জন্য প্রায় পাঁচ-ছয় দিন আগে ভারতে যান সাজু। চিকিৎসা শেষে বুধবার তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। তবে দেশে ফেরার আগেই কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে তাঁর মৃত্যুর খবর পরিবারের কাছে পৌঁছায়।
রেবতী সরকারও চিকিৎসা ও ব্যক্তিগত কাজে ভারতে গিয়েছিলেন বলে স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে। তবে তাঁর ভারত যাওয়ার উদ্দেশ্য ও অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলে অবস্থানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে আগুন লাগে। ঘন ধোঁয়ায় হোটেলের ভেতরে থাকা অনেকেই আটকা পড়েন। পরে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালায়। এ ঘটনায় মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকেরাও রয়েছেন। তবে নিহত বাংলাদেশিদের সংখ্যা ও পরিচয় শনাক্তকরণ নিয়ে ঘটনার পর বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের মাধ্যমে পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছিল।
এদিকে কলকাতার এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘন ধোঁয়া ও ভবনের কাঠামোর কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ঘটনার কারণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ত্রুটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
কালিগঞ্জের দুই বাসিন্দার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁদের নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় রয়েছেন। মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।