শ্যামনগর প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ৬ নম্বর রমজাননগর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আলহাজ্ব ডাঃ মাওলানা আবির হাসান (কওছার)। সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন, সুপেয় পানির সংকট নিরসন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, স্বাস্থ্যসেবার প্রসার ও সরকারি সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিতে চান তিনি। নির্বাচিত হলে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে মানুষের কথা শুনে ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনার অঙ্গীকার করেছেন এই প্রার্থী।
রমজাননগর গ্রামের মরহুম মনোহর গাজীর কনিষ্ঠ পুত্র ডাঃ কওছার। তিনি জামায়াতে ইসলামীর রমজাননগর ইউনিয়ন শাখার নায়েবে আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বীনি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন তিনি।
কওছার সাহেব তার পরিকল্পনা উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচিত হলে টেংরাখালী-কালিঞ্চি সড়ক সংস্কার, সোরা উত্তরপাড়া থেকে ভেটখালী পর্যন্ত ইটের রাস্তা নির্মাণ, ভৈরবনগরের আতির মোড় থেকে ১০০ টাকার বাঁধ হয়ে মানিকখালী পর্যন্ত সড়কের কাজ এবং পাতড়াখোলা সড়কের উন্নয়ন সহ গ্রামীণ অবকাঠামো অভূতপূর্ব উন্নয়ন করবো। ইতোপূর্বে সোরা ও রমজাননগরে দুটি পানির প্ল্যান্ট নির্মাণে নিজের প্রচেষ্টা ছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন ও পুনঃখনন, ড্রেন নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশনের উন্নয়নেও উদ্যোগ নিতে চান।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে কমিউনিটি ক্লিনিকসহ বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয়, অসহায় রোগীদের সহযোগিতা এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তা, তরুণদের খেলাধুলা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণে উৎসাহিত করা এবং মাদক ও জুয়ার বিস্তার রোধে উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
সরকারি ভাতা ও অন্যান্য সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানো, কৃষক, চিংড়িচাষি, জেলে ও বাওয়ালীদের সমস্যা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তুলে ধরা এবং নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও তাঁর ঘোষিত পরিকল্পনার অংশ। নির্বাচিত হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে পরিষদ পরিচালনা এবং প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষের মতামত নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চান কওছার।
সোরা গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী রফিকুল ইসলাম বলেন, “ডাক্তার কওছার সাহেব অত্যন্ত ভালো মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবাসহ নানা ভালো কাজে তাঁকে দেখেছি। আমরা এবার তাঁকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই।”
কালিঞ্চি গ্রামের গৃহবধূ রোজিনা বেগম বলেন, “আমাগে সুখে-দুঃখে যাকে পাশে পাব, আমরা তাকেই ভোট দিতে চাই। ডাক্তারের চেম্বারে গেছি, তিনি ভালো ব্যবহার করেন, খোঁজখবরও রাখেন। তিনি আল্লাহওয়ালা মানুষ বইলে আমাগে মনে হয়।”
পাতড়াখোলা গ্রামের মাসুম বিল্লাহ (২৮) বলেন, “মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণ আর ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নের লাইগ্যা কওছার সাহেবের মতো মানুষ দরকার। অনেক মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণে তাঁকে সহযোগিতা করতে দেখেছি। তিনি চেয়ারম্যান হলে এলাকার কল্যাণ হবে বলে আশা করি।”
তবে ঘোষিত পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, সরকারি অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বাস্তবে এসব উদ্যোগ কতটা এগোয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা পূরণের ক্ষেত্রে।