
মোঃ শরিফুল ইসলাম, বুড়িগোয়ালিনী প্রতিনিধি
দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগরে এবার আমের মুকুলে সেজেছে নতুন রূপে। হালকা রোদ, অনুকূল আবহাওয়া আর সময়মতো পরিচর্যায় উপজেলার বিভিন্ন বাগানে গাছে গাছে ভরে উঠেছে মুকুল। সুবাসে মুখর হয়ে উঠেছে চারপাশ। কৃষকদের মুখেও ফুটেছে আশার হাসি।
উপজেলার শ্যামনগর সদর বুড়িগোয়ালিনী মুন্সীগঞ্জ ও গাবুরা ইউনিয়নের ছোট-বড় বাগানগুলোতে এখন মিষ্টি ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে আমের মুকুল। স্থানীয়রা বলছেন, গত বছরের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা কাটিয়ে এ বছর প্রকৃতি যেন সহায় হয়েছে চাষিদের। সময়মতো রোদ-বৃষ্টি এবং তুলনামূলক কম ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে গাছে গাছে পর্যাপ্ত মুকুল এসেছে।
শ্যামনগর সদর গ্রামের কৃষক মোঃ আশরাফুল হাওলাদার জানান, “গত বছর ঝড়-বৃষ্টির কারণে অনেক ক্ষতি হয়েছিল। ফলন কম হওয়ায় লোকসান গুনতে হয়েছে। তবে এবার আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি।” তিনি আরও বলেন, নিয়মিত কীটনাশক প্রয়োগ ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে গাছগুলো সুস্থ রাখা হচ্ছে, যাতে মুকুল ঝরে না পড়ে এবং পরবর্তীতে ভালো ফলন পাওয়া যায়।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শ্যামনগরে প্রায় ১০ /১৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে। নতুন করে অনেকে বাগান সম্প্রসারণেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বিশেষ করে বাড়ির আঙিনা ও পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে আম চাষে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “এ বছর আম গাছে ভালো মুকুল এসেছে। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি—কীভাবে মুকুল অবস্থায় গাছের যত্ন নিতে হবে, কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে এবং কীভাবে ঝরে পড়া কমানো যায়।” তিনি আরও জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর ফলন সন্তোষজনক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় শরণখোলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি সবসময়ই থাকে। ঘূর্ণিঝড় ও অতিবৃষ্টির প্রভাব আমের বাগানে বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। তবুও কৃষকরা আশাবাদী। মুকুলে ভরা গাছগুলো যেন তাদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
সব মিলিয়ে আমের মুকুল ঘিরে শ্যামনগরে এখন আশাবাদের আবহ। ভালো ফলন হলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও সরবরাহ বাড়বে, যা কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে। উপকূলের এই জনপদে তাই আমের মুকুল এখন শুধু সুবাসই ছড়াচ্ছে না, বুনছে সম্ভাবনার নতুন গল্পও।