
উপকূলীয় অঞ্চল( শ্যামনগর) প্রতিনিধি:
২০০৯ সালের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা গাবুরাবাসী নিশ্চয়ই ভুলে যায়নি। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ড দেখে আশঙ্কা জাগে—আমরা কি সেই ভুলের দিকেই আবার এগিয়ে যাচ্ছি?
বর্তমান এমপি, চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ সংশ্লিষ্ট সকল জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ—বেড়িবাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিন।
আসুন, দল-মত নির্বিশেষে আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গাবুরাকে রক্ষা করি। বেড়িবাঁধে অবৈধ নাইনটি পাইপ স্থাপন বা ব্যবহার বন্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ব্যক্তিগত বা দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।
মনে রাখবেন, গাবুরা আমাদের সবার। গাবুরাকে রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
এসব দেখলে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে যখন নিরবতা দেখি, তখন রাগ, ক্ষোভ আর ঘৃণায় গা ঘিন ঘিন করে। এইগুলোর সুদূরপ্রসারী প্রভাব বোঝার ক্ষমতা কী কর্তা ব্যক্তিরা হারিয়ে ফেলছেন নাকি বালিতে মাথা গুজে না বোঝার ভান করছেন? এতো বড় সর্বনাশ নিয়ে কথা যদি বলতে না পারেন, তাহলে আপনারা এই মাটি ও মানুষের নেতৃত্ব দেওয়ার নূন্যতম যোগ্যতা হারিয়ে ফেলছেন। যুবকদের হয়তো বেয়াদবী তকমা নিয়ে নেতৃত্ব দিতে হবে। অশান্ত হবে সামাজিক পরিবেশ। এই সব নাইনটির পাইপ ও টিউবওয়েলের মাথা দিয়ে ছেলেরা ঝাল-মুড়ি কিনে খাক এটা আমরা কেউ চাই না। কেননা এগুলোও গাবুরার মানুষের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে কেনা। তাই গাবুরার সন্তান হিসেবে জনাব এমপি ও চেয়ারম্যান মহোদয়ের প্রতি অনুরোধ অনেক হয়েছে এবার দায়িত্ব নিন। আপনাদের অপারগতার ভার প্রজন্মের পর প্রজন্ম গাবুরার সাধারণ মানুষ বহন করবে না। আপনারা কেন বুঝছেন না এগুলো চলমান থাকলে আগামীতে গাবুরার দুর্বিপাকে কেউ পাশে দাঁড়াবে না। গাবুরার মানুষের ব্যাপারে খারাপ ধারণা তৈরি হবে অন্যদের। আপনাদের প্রতি আমাদের যে আশা, ভরসা আর সম্মান রয়েছে তা বজায় রাখবেন সেই প্রত্যাশা রয়েছে আমাদের। আপনাদের প্রতি আজ যৎকিঞ্চিৎ কিছু অনুরোধ রেখে গেলাম।
ক. প্রশাসনের সহায়তায় পানি তোলার সরকার অনুমোদিত গেট (যদি থাকে) ছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে অননুমোদিত সকল নাইনটি অপসারণ করা।
খ. যাদের ঘের রয়েছে তাদেরও পানি প্রয়োজন, তাই অনুমোদিত মাধ্যমে পানি উত্তোলন অথবা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পানির ব্যবস্থা নিতে উৎসাহিত করা।
গ. এক্ষেত্রে কয়েকজন (৩০-৪০ বিঘা) মিলে সাবমারসিবল ও সোলার প্যানেল বসিয়ে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পানির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যা পরিবেশবান্ধব এবং কারো উপর নির্ভর না করে দীর্ঘমেয়াদী নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। (পাশের পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাতাখালী গ্রামে শুরু করেছে অনেকে)
ঘ. ঘের মালিকরা একবার খরচ করলে আর নদীর পানির উপর নির্ভর করা লাগবে না। ফলে লোনা পানি মুক্ত সবুজ গাবুরা পাবো আমরা। তারা মাছের পাশাপাশি ধান ও লাগাতে পারবে এমনকি ঘেরের রাস্তায় সবজিও হবে।
ঙ. ঘের মালিকদের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা রয়েছে তবে সেটা আমাদের ভবিষ্যৎ ক্ষতি করে নয়। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার লক্ষ্যে তাদের সাথে বসেন। পাশাপাশি অন্য অংশীজনদেরও সাথে নেন। কিভাবে কেউ ক্ষতিগ্রস্থ না হয়ে সুন্দর গাবুরা গড়া যায় সেদিকে নজর দেন।
আমাদের প্রত্যাশা দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করবেন। গাবুরার সন্তান হিসেবে জাতির কাছে আপনাদের নেতৃত্ব ও যোগ্যতা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলুক এটা আমরা চাই না। আমরা সবাই এক অন্যের সারথি হয়ে সামনে চলতে চাই। কোনভাবে চাই না অগ্রজ ও অনুজদের চলার পথ, মত ও দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হোক। আল্লাহ আমাদের বোঝার তাওফিক দান করুন।