শ্যামনগর প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আব্দুল মজিদ। নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলা এবং দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
আব্দুল মজিদের জন্ম মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সেন্ট্রাল কালিনগর গ্রামে। তাঁর বাবা মরহুম আব্দুর রহিম মোড়ল। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মজলিসে শুরার সদস্য। বিগত সময়ে শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমির হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পেশাগত জীবনে ফয়সালাবাদ মুস্তাফাবিয়া আলিম মাদ্রাসার সুপার এবং পরে ইসলামাবাদ দাখিল মাদ্রাসার সহ-সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে অবসর জীবনযাপন করছেন।
আব্দুল মজিদ বলেন, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি সাধারণ মানুষের সেবা করেছেন এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজেও ভূমিকা রেখেছেন। নির্বাচিত হলে জনগণের কথা সরাসরি শুনে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেবেন। এ ক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্থতাকারী বা দালালের প্রয়োজন হবে না বলেও জানান তিনি।
উপকূল ও সুন্দরবনের পাদদেশে নদীবেষ্টিত মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন এই প্রার্থী। তিনি বলেন, লবণাক্ততা, সুপেয় পানির সংকট, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার মতো সমস্যার পাশাপাশি রাস্তাঘাটের উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে আব্দুল মজিদ বলেন, মীরগাং, হেতালখালী, কদমতলা ও মৌখালীর বিভিন্ন রাস্তা সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি গ্রামীণ সড়ক, কালভার্ট ও সেতুর উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে করা হবে।
তাঁর ঘোষিত পরিকল্পনায় রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে সহযোগিতা, স্থানীয় বিরোধ নিরসন, অবৈধ দখল প্রতিরোধ, কবরস্থান ও শ্মশানের ব্যবস্থাপনা এবং মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের উন্নয়ন, দরিদ্র, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সহায়তার কথা। মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান।
সেন্ট্রাল কালিনগর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম (৫২) বলেন, আব্দুল মজিদ তাঁদের পরিচিত মানুষ। একজন আলেম হিসেবে তাঁকে গ্রামের মানুষসহ ইউনিয়নের অনেকে ভালোবাসেন ও সম্মান করেন। আশা করি মজিদ হুজুর নির্বাচিত হয়ে ইউনিয়নের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মোফাজ্জল হোসেন (৫০) বলেন, এর আগে অনেককে দেখেছি। এবার আব্দুল মজিদকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই। আব্দুল মজিদ নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের উন্নয়ন হবে।
মীরগাং গ্রামের রাবেয়া খাতুন বলেন, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের রাস্তাঘাটের উন্নয়নে একজন ভালো চেয়ারম্যান দরকার। মাওলানা আব্দুল মজিদ ভালো মানুষ।
তবে ঘোষিত পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, সরকারি বরাদ্দ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর। নির্বাচিত হলে এসব পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়ন করবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত অর্থায়ন ও সময়সীমার তথ্য তাঁর দেওয়া বক্তব্যে উল্লেখ নেই।