শ্যামনগর প্রতিনিধি,
শ্যামনগর, সাতক্ষীরা, ২৯ অক্টোবর ২০২৬: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও অধিকার সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় জলবায়ু শিক্ষা ও আদিবাসী অধিকার বিষয়ক সচেতনতামূলক সেশন ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সুন্দরবন বালিকা বিদ্যালয়ের হলরুমে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থা (সামস্) এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের ৫০টি বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) প্রশ্ন দেওয়া হয়। ৩০ মিনিটের মধ্যে সঠিক উত্তরে টিক চিহ্ন দিয়ে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষক পরীক্ষা কমিটির দায়িত্ব পালন করেন। পরে বাছাইকৃত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে মেধাতালিকায় স্থান অর্জনকারী নয়জনকে পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এ সময় সহকারী শিক্ষক রণজিৎ কুমার বর্মন, ভবেশিন্দুর বৈদ্য ও খোকন বৈদ্য উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক কৃষ্ণপদ মুন্ডা, কমিউনিটি কো-অর্ডিনেটর অলক কুমার পাল, কমিউনিটি অর্গানাইজার মনিকা সরকার ও হৈমন্তী রানী, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন গ্রিন ক্লাইমেট অ্যাকশন টিমের সভাপতি অসিত কুমার মুন্ডা এবং মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন গ্রিন ক্লাইমেট ইয়ুথ ক্লাবের সভাপতি। এ ছাড়া স্থানীয় সুধীজন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থার কমিউনিটি অর্গানাইজার মোমিনুর রহমান।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, পরিবেশকে সুন্দর ও বাসযোগ্য রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মানুষে মানুষে জাতি, বর্ণ ও সম্প্রদায়গত পার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার সমান। মুন্ডা, ঋষি, জেলে কিংবা কাহার—পরিচয় যা-ই হোক না কেন, প্রত্যেকেরই নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।
তাঁরা আরও বলেন, কোনো মানুষকে বৈষম্যের চোখে দেখা উচিত নয়। বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, সুন্দরবনসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণে নতুন প্রজন্মকে সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তাঁরা।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও নেটজ বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং বারসিকের সহায়তায় সুন্দরবন আদিবাসী মুন্ডা সংস্থার বাস্তবায়নে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরিবেশ সংরক্ষণে তরুণ ও যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করা এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও অধিকার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।