
মোঃ শরিফুল ইসলাম, বুড়িগোয়ালিনী প্রতিনিধি।
সুন্দরবনের দুবলার চর এলাকায় আবারও বনদস্যু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দস্যুদের হাতে অন্তত অর্ধশতাধিক জেলে জিম্মি হয়ে আছেন বলে জানা গেছে। দুবলার চর ছাড়াও নারকেলবাড়িয়া ও সেলার চর এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। কয়েকদিন ধরে জিম্মি হয়ে থাকা জেলেদের মুক্তির জন্য দস্যুরা মাথাপিছু তিন থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের ধরে নিয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে আশ্রয় নিয়েছে দস্যুরা। মুক্তিপণ আদায়ের জন্য জিম্মিদের পরিবারগুলোর সঙ্গে দেনদরবার চলছে। এ অবস্থায় আতঙ্কে অনেক জেলে সাগরে পাতানো জাল রেখেই তীরে ফিরে এসেছে। ফলে দুবলার চর ও আশপাশের বিস্তীর্ণ সুন্দরবন এলাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি বন প্রতিমন্ত্রী ডা. শেখ ফরিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে একটি সভায় সুন্দরবনে বনদস্যু ও জলদস্যু দমনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। সভায় দস্যুতা দমন ও স্থায়ী সমাধানের বিভিন্ন পথ নিয়ে মতামত উঠে আসে। কেউ কেউ দস্যুদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলেন। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এরই মধ্যে দস্যু দমনে অভিযান শুরু হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জানা গেছে। দ্রুতগামী সশস্ত্র নৌযান দিয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব দৃশ্যমান অভিযানের কার্যকারিতা খুব একটা দেখা যায় না। কারণ দস্যুরা সাধারণত এমন খালে অবস্থান করে না যেখানে সহজে অভিযান চালানো যায়। উপরন্তু দ্রুতগামী নৌযানের শব্দ অনেক দূর থেকেই শোনা যায়, ফলে দস্যুরা আগেই সতর্ক হয়ে যায়।
গত দেড় বছরে সুন্দরবনে দস্যু দমনে একাধিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে দস্যু সদস্য গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের খবরও পাওয়া গেছে। কিন্তু তারপরও দস্যুতা কমার পরিবর্তে নতুন করে বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, অভিযান ও গ্রেপ্তারের পরও কেন দস্যুদলের সংখ্যা ও অস্ত্রের মজুত বাড়ছে।
এর আগে সুন্দরবনের সেলার চর এলাকায় উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় পাঁচ থেকে ছয়জন জেলেকে। এর পরপরই সাগর এলাকায় অপহরণের ঘটনা বাড়তে থাকে। ফলে জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে মাছ ধরা বন্ধ করে তীরে ফিরে আসেন।
স্থানীয় বনজীবী ও জেলেদের অভিযোগ, পুরো দুবলার চর ও সুন্দরবন এলাকায় যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে তা সরেজমিনে দেখতে বা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে খুব কম মানুষই যাচ্ছেন। ফলে অনেক সময় শোনা কথার ওপর ভিত্তি করে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে, যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সুন্দরবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, বনদস্যুতা শুধু মানুষের জন্যই নয়, বনের জীববৈচিত্র্যের জন্যও বড় হুমকি। তাই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে সুন্দরবন থেকে দস্যুতা সম্পূর্ণ নির্মূল করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বনজীবী ও সচেতন মহল।