
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার চালিতাঘাটা বাজারের একটি সরকারি সেড ইজারা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। বুধবার বিকেলে ভুরুলিয়া ইউনিয়নের চালিতাঘাটা বাজার এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
ভুরুলিয়া ইউনিয়নের সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে এবং চালিতাঘাটা প্রভাতী সংঘের সহযোগিতায় আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ভুরুলিয়া বাজার কমিটির সম্পাদক মহাসিন রেজা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ভুরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জি এম লিয়াকত আলী।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি অর্থায়নে নির্মিত বাজারের সেডটিতে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। সম্প্রতি কয়েকজন ব্যক্তি চান্দিনা ভিটার ইজারার কাগজের উল্লেখ করে সেডটিতে নিজেদের মালিকানা দাবি করে সাইনবোর্ড টাঙান। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মো. হোসেন আলী ‘মিম অ্যান্ড জিম এন্টারপ্রাইজ’ এবং মো. মহিবুল্লাহ ‘মহিবুল্লাহ স্টোর’ নামে দুটি সাইনবোর্ড সেডে স্থাপন করেন। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী সাইনবোর্ড দুটি অপসারণ করেন। তাঁদের দাবি, বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীদের ব্যবহৃত সরকারি সেড ব্যক্তিস্বার্থে ইজারা দেওয়া হলে বহু ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনারুল হক, স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা কমিটির সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রেজাউল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব রাজু আহমেদ আজু, প্রভাতী সংঘের সভাপতি আব্দুল আজিম বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান সাগর, কোষাধ্যক্ষ আশরাফুল আলম ও প্রচার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিঠুসহ অন্যরা।
ইউপি সদস্য আনারুল হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাজারের এই সেডে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করে আসছেন। সেডটির উন্নয়নে ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এমন অবস্থায় এটি ইজারা দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
প্রধান অতিথি জি এম লিয়াকত আলী বলেন, জনস্বার্থের পরিপন্থী এই ইজারা বাতিল করা উচিত। বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও জেলা প্রশাসকের নজরে আনার দাবি জানান তিনি। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. মহিবুল্লাহর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তৎকালীন নায়েব রেজাউল ইসলাম বলেন, বাজারের কোনো সেড ইজারা দেওয়ার সুযোগ নেই। জেলা প্রশাসকের অনুমোদনক্রমে চান্দিনা ভিটার ইজারা দেওয়া যেতে পারে। কেউ যদি ইজারাকৃত জমির বাইরে অন্য স্থানে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে মালিকানা দাবি করেন, তা বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।