
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
তিস্তা নদীর আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার হরিণচড়া মধ্যচর এলাকায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলের প্রায় ৫০০ পরিবারের দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ করেই তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মুহূর্তের মধ্যে বাদাম, ধানের বীজতলা, পাটসহ বিভিন্ন ফসলি জমি প্লাবিত হয়। এতে কৃষকদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষক গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। কেউ কেউ উঁচু জায়গায় অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
বন্যার কারণে চরাঞ্চলের অভ্যন্তরীণ সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় হাট-বাজার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য সংগ্রহেও ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এছাড়া স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যেতে না পারায় তাদের লেখাপড়াও ব্যাহত হচ্ছে।
হরিণচড়া মধ্যচরের বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে তিস্তার আকস্মিক বন্যা তাদের জীবন-জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলে। ঘরবাড়ি, ফসল ও গবাদিপশু রক্ষা করতেই তাদের অধিকাংশ সময় ব্যয় করতে হয়। ফলে প্রতি বছরই তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
স্থানীয়দের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য দ্রুত ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে নদীভাঙন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর বাঁধ নির্মাণ এবং টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
তিস্তা নদী এ অঞ্চলের মানুষের কৃষি, জীবিকা ও অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হলেও বর্ষা মৌসুমে নদীর আকস্মিক পানি বৃদ্ধি প্রতিবছরই হাজারো পরিবারকে দুর্ভোগে ফেলে। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সরকারি সহায়তা ও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।