
বিশেষ প্রতিনিধি শ্যামনগর:
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের ষষ্ঠ তলায় প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ডি-সেট (ডিজাস্টার সাপোর্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি টিম) সেন্টারের নির্মাণকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং নির্মাণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় ভবনটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জাকাউল্লাহ ব্রাদার্স। তবে প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি কাজ না করে আব্দুল হাকিম নামে এক ব্যক্তিকে সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে নির্মাণকাজ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা পরিষদের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সচেতন স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে প্রথম শ্রেণির ইটের পরিবর্তে দ্বিতীয় শ্রেণির ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্ধারিত কুষ্টিয়ার বালুর পরিবর্তে দেবহাটা এলাকার নদীর বালু ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় কম সিমেন্ট ব্যবহার, নিম্নমানের সিমেন্ট দিয়ে কাজ করা, ইটের গাঁথুনি ও প্লাস্টারের পর নিয়মিত পানি না দেওয়া এবং বৈদ্যুতিক সংযোগের জন্য ছাদ ও বিম কেটে ওয়্যারিং করার অভিযোগও করেছেন তারা। তাদের দাবি, বৈদ্যুতিক তারও নিম্নমানের ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রকল্পে রিভিশনের মাধ্যমে ব্যয় বৃদ্ধি করা হলেও নির্মাণকাজের মানে তার প্রতিফলন নেই। এভাবে কাজ চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুস সালাম বলেন, “আমি ঠিকাদারকে প্রকল্পের নকশা ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করার জন্য বলেছি।” শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামসুজ্জাহান কনক বলেন, “নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”