সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় দিনের আলোয় এক সেনাসদস্যের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা বসতঘরের তালা ভেঙে আনুমানিক ৬-৭ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও ব্যাংকের চেক বইসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করে নিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পাটকেলঘাটা থানার পারকুমিরা গ্রামে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা যায়, পারকুমিরা গ্রামের মৃত জব্বার আলীর ছেলে মো. শুকুর আলী সেনাবাহিনীতে কর্মরত এবং বর্তমানে রাঙ্গামাটিতে পোস্টেড রয়েছেন। বাড়িতে তাঁর স্ত্রী একা থাকতেন। মঙ্গলবার সকালে রান্নার জন্য ঘরের পাশের জমি থেকে সবজি তুলতে যান তাঁর স্ত্রী। এই সুযোগে ফাঁকা ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা ঘরের ভিতরে থাকো আলমারি ভেঙে সবকিছু নিয়ে যায়। মাত্র ১৫ মিনিট পর শুকুর আলীর স্ত্রী ঘরে ফিরে দেখেন তার আলমারি ভাঙা ও আসবাবপত্র তছনছ অবস্থায় দেখতে পান। এসময় তিনি চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। পরে তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, ঘরে রক্ষিত গচ্ছিত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র নিয়ে গেছে চোরচক্র।
সেনাসদস্যের ভাই মহব্বত আলী ও সুরত আলী বলেন, “ঘটনার সময় আমরা যার যার কর্মক্ষেত্রে ছিলাম। এর আগে এলাকায় এমন দিনের আলোয় চুরির নজির নেই। প্রশাসনের কাছে আমাদের আকুল আবেদন—সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে চুরি হওয়া মালামাল দ্রুত উদ্ধার করা হোক এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।”
স্থানীয় সাংবাদিক সুরুজ আলী বলেন হঠাৎ করে এলাকায় চুরির হার বেড়েগেছে।পাটকেলঘাটা বাজার সহ ও তার আশপাশের গ্রামে প্রতিনিয়ত চুরি হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের তেমন কোন কার্যকরী ভূমিকা না থাকায় আজ দিনের আলোয় এত বড় চুরির ঘটনা ঘটলো
খবর পেয়ে পাটকেলঘাটা থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পাঠানো হয়েছে । গৃহকর্তার অনুপস্থিতি এবং ফাঁকা বাড়ির সুযোগ নিয়ে চোরচক্র এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক অবস্থায় মনে করছি। আমরা মালামাল উদ্ধার এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
এদিকে ব্যস্ততম পারকুমিরা গ্রামে দিনের আলোয় এমন দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার এবং দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।